ঢাকা ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ , ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

​দুর্বল ব্যাংকে তারল্য সুবিধা দেওয়া আর ঠিক হবে না: ড. ফাহমিদা

আপলোড সময় : ০৯-১২-২০২৪ ০৩:১৯:৪৯ অপরাহ্ন
​দুর্বল ব্যাংকে তারল্য সুবিধা দেওয়া আর ঠিক হবে না: ড. ফাহমিদা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া ঠিক নয়। কারণ এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি শুধুমাত্র আমানতকারীদের টাকা দিতে ছয়টি দুর্বল ব্যাংককে বিশেষ তারল্য সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে আর এ ধরনের সুবিধা দেওয়া ঠিক হবে না। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করতে হবে। তবে তা অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে। একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর করেছিলেন।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রাজধানীর এফডিসিতে ‘আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাবই দুর্নীতি প্রতিরোধে বড় চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থা ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ‘ছায়া সংসদ’ নামে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটিকে হারিয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।

দুর্বল ছয়টি ব্যাংককে টাকা ছাপিয়ে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের টাকা ঠিকমতো দিতে না পারার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সহায়তা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু উদ্যোগটি কার্যকর হয়নি। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের কথা ভেবে সম্প্রতি বিশেষ তারল্য সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য এর বিপরীতে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার (স্টেরিলাইজেশন) কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তারপরও পরবর্তীতে এভাবে সরাসরি বিশেষ ধার আর দেওয়া উচিত হবে না। এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ কিংবা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে খারাপ সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা যেতে পারে। 

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনে বাংলাদেশের বাণিজ্যে কেমন প্রভাব পড়তে পারে– এমন প্রশ্নের উত্তরে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুটি দেশ তখনই বাণিজ্য করে যখন তুলনামূলক সুবিধা থাকে। বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করে বেশি, রপ্তানি করে কম। ভারত থেকে কোনো কারণে আমদানি না হলে হয়তো একটু বেশি দামে অন্য দেশ থেকে আনতে হবে। তবে বাংলাদেশ ভারতের পণ্যের অন্যতম বড় বাজার। পণ্যের পাশাপাশি সেবা বাণিজ্যেও বাংলাদেশ তাদের বড় উৎস। এটি দোষ বা দুর্বলতার কিছু নয়। সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও ভারত তো চীনের সঙ্গেও বাণিজ্য করে।

ভারতের কোম্পানি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চুক্তিটি একপক্ষীয় হয়েছে। জনগণকে পাশ কাটিয়ে চুক্তি করা হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। সরকারের উচিত এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনা, পুনর্মূল্যায়ন ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশে ৬০টি ব্যাংকের প্রয়োজন ছিল না। দলবদল হয়ে সরকার পরিবর্তন হলে রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এভাবে লাইসেন্স পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা সেবা দেওয়ার জন্য আসেনি। আমানতকারীদের অর্থ লোপাট ছিল তাদের উদ্দেশ্য। সর্বশেষ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার সময়ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে ফাহমিদা খাতুন বলেন, আইন সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে রাজনৈতিক সমর্থন দিতে হবে। আর্থিক খাতে গত সরকারের আমলে দুর্নীতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীরা একে অপরকে সুযোগ করে দিয়েছে। প্রচলিত আইনে তাদের শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে এ ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকবে। সংস্কার নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে সংস্কার ব্যর্থ হবে এবং তা হলে গণ অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি অবিচার করা হবে।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, গত সরকারের আমলে ব্যাংকের মালিকদের সমিতি পাঁচ তারকা হোটেলে বসে সুদহার ও ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করে দিতো। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে যিনি কর খেলাপি, তিনিই ঋণ খেলাপি আবার তিনিই অর্থ পাচারকারী।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ